কাহিনীর প্রেক্ষাপট:
উপন্যাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বইয়ে যাকে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)। কাহিনীর নায়ক উপাচার্য আবু জুনায়েদ, যিনি একজন অতি সাধারণ ও নিরীহ গোছের মানুষ ছিলেন। কিন্তু উপাচার্যের চেয়ারে বসার পর তাঁর পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ দলাদলি তাঁকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির আশায় তিনি তাঁর বাংলোর পেছনের বাগানে একটি 'গাভী' পালন শুরু করেন।
ব্যঙ্গাত্মক রাজনীতি:
উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর প্রতীকী উপস্থাপনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা যখন ছাত্রদের শিক্ষাদানের পরিবর্তে উপাচার্যের গাভীর সেবা করা বা গাভীর দুগ্ধ মহিমা কীর্তন করাকে পদোন্নতির সিঁড়ি হিসেবে বেছে নেন, তখন তা সমাজের এক চরম নৈতিক অবক্ষয়কে ইঙ্গিত করে। আহমেদ ছফা অত্যন্ত রসালো ভাষায় দেখিয়েছেন যে, ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে মানুষ কতটা হাস্যকর ও নিচু স্তরে নামতে পারে।
উপাচার্য আবু জুনায়েদ চরিত্রটি:
আবু জুনায়েদ চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক এমন একজন ব্যক্তিকে ফুটিয়ে তুলেছেন, যিনি সারাজীবন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারলেও ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রী, তাঁর সহকর্মী এবং তাঁর চামচাবাজ অনুসারীদের মাধ্যমে লেখক তৎকালীন সমাজের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ তুলে ধরেছেন। যেখানে গবেষণার চেয়েও 'গাভীর গোবর' বা 'খৈল-ভুষি' নিয়ে আলোচনা বেশি গুরুত্ব পায়।
কেন এই বইটি পড়বেন?
১. বাস্তবতার প্রতিফলন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক রাজনীতি এবং দলাদলি কীভাবে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করছে, তা বোঝার জন্য এই বইটি পড়া জরুরি।
২. তীক্ষ্ণ হাস্যরস: আহমেদ ছফার লেখনীতে এমন এক ধরণের হিউমার আছে যা আপনাকে হাসাবে, কিন্তু পরক্ষণেই এক গভীর বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে দেবে।
৩. সহজ পাঠ: মাত্র ১০০ পৃষ্ঠার কাছাকাছি এই বইটি এক বসাতেই পড়ে শেষ করা যায়, কিন্তু এর রেশ থাকে দীর্ঘকাল।
bnebooks-এর পাঠকদের জন্য শেষ কথা:
যারা আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্ধকার দিকগুলো জানতে চান, তাঁদের জন্য 'গাভী বিত্তান্ত' একটি অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ। আহমেদ ছফা এই বইটির মাধ্যমে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন যে, আদর্শহীন জ্ঞান কেবল পশুতুল্য আচরণের জন্ম দেয়।


ফাউস্টের পিডিএফ লিংটা দিতে পারবেন প্লিজ।
ReplyDelete